মিথ্যা আর সত্য
মিথ্যা আর সত্য মিশে আছে এই মায়ার ভুবনে। দুটোকে আলাদা করতে দরকার একটা ফিল্টার বা ছাঁকনি।
ছাঁকনি তৈরি করতে লাগে দুটো জিনিস - বাধা আর অবকাশ - সন্দেহ আর বিশ্বাস। এ
দুটোই দরকার। মানুষ চিনতেও এই দুটোই দরকার। যে কোন মানুষ। সে যেই হোক।
মানুষকে যে পুরো বিশ্বাস করবে তার ধ্বংস অনিবার্য। আবার পুরো অবিশ্বাস
করলেও মুস্কিল, কারণ তাহলে সে এগোতেই পারবে না। ঝুঁকি ছাড়া জীবন হয় না।
জনাকীর্ন শহরের পথে হাঁটা আর অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে হাটার ঝুঁকি একইরকম।
তবুও আমরা কাউকে কখনও বিশ্বাস করে ফেলি। তার
পিছনে আছে কিছু সংস্কার। ঈশ্বর-বিশ্বাসীরা ধর্মীয় পোশাক পরা কাউকে বিনা
দ্বিধায় বিশ্বাস করে। বামপন্থীরা লালঝান্ডা বা কাস্তেহাতুড়ি দেখলে বিশ্বাস
করে। এবং গাড্ডায় পড়ে।
আমরা সুন্দরকে বিশ্বাস করি। ভুল করি। আমরা ব্র্যান্ডনেম-এ বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। আমরা নেতার ভাষনে বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। আমরা কবিকে, শিল্পীকে, অধ্যাপককে, ভক্তকে, বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। ভুলে যাই এরাও মানুষ, সুতরাং অবিশ্বাসের পাত্র।
আমরা বিজাতীয়-বিধর্মীদের অবিশ্বাস ক'রে স্বজাতি-স্বগোত্রকে বিশ্বাস করি - এটা মারাত্মক ভুল।
আমরা সত্যবাদিকে, যে কোন দিন একটাও মিথ্যা বলে নি, তাকে বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। আমরা ভুলে যাই, যে ব্যক্তি কোন দিন একটাও মিথ্যা বলে নি, সে প্রথমত মানুষ নয়। বরং যে কিছু মিথ্যা বলে, তাকে কিছুটা বিশ্বাস করা যেতে পারে।
আমরা প্রথম জনের কথা বিশ্বাস করি; তার কথার সাথে সাজুয্য না পেলে দ্বিতীয় জনকে অবিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। এটাই আমাদের অভ্যাস। সন্দেহটা শুরু করা উচিৎ প্রথমজনকে দিয়েই।
আমরা উপকারিকে বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। কৃতজ্ঞতা এক মায়াজাল সৃষ্টি করে, তাতে বুদ্ধিভ্রম হয়, সেই সুযোগে উপকারী আরো বড় ক্ষতি ক'রে ফয়দা তুলে নিয়ে কেটে পড়ে।
আমরা তোষামোদকারীকে বিশ্বাস করি। এবং ভুল করি। তোষামোদ আরেক মায়া, তাতেও বিভ্রান্তি হয়, এবং ক্ষতি যা হওয়ার হয়।
যাক, তালিকা দীর্ঘ করছি না। মোট কথা, বেশী পজিটিভ হওয়ার যে পরামর্শ আমাদের দেওয়া হয়, তা থেকে সাবধান হওয়া উচিৎ। কারণ, কিছুটা নেগেটিভ হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আছে।