Friday, 31 August 2018

ধর্ম শব্দের উৎস ধৃ-ধাতু যার মানে ধারণ করা।


ধর্ম শব্দের উৎস ধৃ-ধাতু যার মানে ধারণ করা।




এ লেখার বিষয় ধর্ম না ধার্মিক নাকি শুয়োরের বাচ্চা তা বোঝার জন্যে এই বাজে লেখাটা পুরো পড়তে হবে। তবে, কোন বাধ্যবাধকতা নেই। দেখাশোনা ফ্রি, কেনাকাটা আপনার ব্যক্তিগত।
 
তাছাড়া, আজ পর্যন্ত কেউ কোন একটা কথাও সম্পূর্ন করে বলে উঠতে পারে নি। হেঃ, আমি তো কোন ছার (পোকা?)। যাক গে,

প্রথমেই প্রশ্নটা আসছে ধর্ম মানে কি। এই তর্কে যাওয়ার আগে আমাদের জানতে হচ্ছে মানের মানে কি। মতলব কা মতলব কেয়া হ্যাঁয়। হোয়াটস দ মিনিং অফ মিনিং। আপনার কলমে যদি কালি না থাকে তবে সেই কলমটা সঙ্গে রাখার কোন মানে আছে কি?

পাবলিক কি বলে দেখা যাক। দাদাভাই, দিদিভাই, চাষীভাই, শ্রমিকভাই, কেরানিভাই, অফিসারভাই, অধ্যাপকভাই, নেতাভাই, মন্ত্রীভাই, রাষ্ট্রপতিভাই, (আরেকটা ভাই সেন্সর করলাম) সবাইকেই বলছি। ধর্ম বলতে আপনি কি বোঝেন?

যাঃ শালা ! ধর্ম মানেন না? নকশাল নাকি?

ধর্ম শব্দের উৎস ধৃ-ধাতু যার মানে ধারণ করা।

তা বেশ। তো, আপনি কী ধারণ করেন? দাদা! বৌদি! আপনি কী ধারণ করেন? বৌদি বললেন, সন্তান। দাদা চুপ। পাবলিক প্লেস-এ বলতে লজ্জা পাচ্ছেন। অবশেষে কানেকানে বললেন, বীর্যধারণ করি।

তো, স্যার, আপনি যদি আপনার বীর্যকে ধারণ করে রাখেন, ম্যাডাম কি করে সন্তানধারণ করবেন, ভেবেছেন কি? যাক গে, এটা আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়, যদিও দেখা যাচ্ছে, ব্রহ্মচর্যের নিরিখে বীর্যধারনের মানে আছে অথচ বংশরক্ষার নিরিখে তার কোন মানে নেই। আবার, বংশ মানে যদি বাঁশ হয়, বংশরক্ষার নিরিখে ও বস্তুটির ব্যবহার দেখা যায় না, বরং সম্পত্তিরক্ষার পদ্ধতির মধ্যে বাঁশের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আবার, সম্পত্তিরক্ষা & বংশরক্ষার মধ্যে কিন্তু একটা গোপন সম্পর্ক আছে।

[অন্তর্বর্তী টিকা – লেখাটা কি অশ্লীল মনে হচ্ছে? তাহলে বলি, to conceive যদি সন্তানধারণ হয়, তাহলে concept মানে কি দাঁড়ায়? ধৃ-ধাতুর সাথে কোন যোগ পাওয়া যাচ্ছে না কি? আধুনিক বাজারে যেখানে concept নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে contraceptive এত জনপ্রিয় হয় কি করে? গুলিয়ে যাচ্ছে না কি? কোন লেখাযদি কঠিন মনে হয়, বুঝতে হবে লেখাটা conceive করতে অসুবিধা হচ্ছে। তখন কনসেপ্ট ক্লিয়ার করা দরকার। সেই চেষ্টাটাই করছি।]

অর্থাৎ এত কিছুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিছু-কিছুর মানে হয় যদি কাজে লাগে যদিও কাজে না লাগলেও তারও আবার কিছু মানে হয়, যাকে বলে পান্ডিত্য।

এই যে পান্ডিত্য। একটা দারুন জিনিস। স্মার্ট-ফোনের মত। সবার কাজে লাগে। ক্যালকুলেশন করতে লাগে আবার গেম খেলতেও লাগে আবার লোকের পিছনে কাঠি দিতেও লাগে। বিশেষ করে ধর্মচর্চার মত স্মার্ট-গেম খেলতে। হ্যাঁ, ধর্মচর্চা একটা গেম-ই বটে। অবসর বিনোদনের জন্য এত ভাল গেম আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নি। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, স্বাক্ষর-নিরক্ষর, ছোটলোক-বড়লোক, সবাই মেতে আছে এই গেম-এ। আর এই গেম খেলতে গেলেই পন্ডিত-মুর্খ সবার মধ্যেই জেগে ওঠে পাণ্ডিত্য। তখন আর তারা সোজা পথে ভাবতে পারে না, সোজা কথায় চলতে পারে না। যা আছে তা ভুলে গিয়ে যা নেই তাতেই মেতে ওঠে। তাই তো দিকে দিকে দেখি ধর্মের জয়।

[অসমাপ্ত। হ্যাঁ, অসামাপ্তিতে পান্ডিত্যের ইঙ্গিত।]

আশ্চর্য বাস্তবতা!



আশ্চর্য বাস্তবতা


শব্দগুলো পড়ছি পরপর। প্রতিক্রিয়ায় দৃশ্য গড়ে উঠছে মগজের মহাজগতে, দৃশ্য থেকে উঠে আসছে সঙ্গীত, দেখা যাচ্ছে না, শোনা যাচ্ছে। দৃশ্য আর সঙ্গীত মিলে গড়ে উঠেছে সামগ্রিক আবহ। পরের শব্দগুলো পড়ছি। দৃশ্য একই থাকছে, আরো কিছু সংযুক্ত হচ্ছে, আরো ভরাট হচ্ছে আবহ। পরের শব্দগুলো। আরো ভারী হচ্ছে আবহ, সঙ্গীতের আনুষঙ্গিকতা বেড়ে গেছে। পরের শব্দ। দাড়ি কমা জিজ্ঞাসা বিস্ময় আর শব্দের পর শব্দগুলো পড়ে যাচ্ছি। কিছু ঘুর্ণিচক্রের অনুভব হচ্ছে। আর কিছু সরল ঋজু উল্লম্ব গতিশীলতা। সব গতি সব অভিমুখ ভিন্ন ভিন্ন বার্তা নিয়ে। পরের শব্দগুচ্ছ একসাথে পড়ে ফেললাম। ঈশান কোন থেকে একটা সংবেদ এসে চিৎকার করে ফেটে গেল। উল্লম্ব অভিমুখে জ্বলে উঠল সংবাদ। কিসের সংবাদ? দেখা যাক পরের শব্দগুলো পড়ে দেখি। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দের গুচ্ছে গড়ে ওঠা বাক্য। শব্দের সংহতি গড়ে তোলে যে বাক্য। এবং বাক্য এবং বাক্য। এতক্ষণ গড়ে ওঠা আবহের মধ্যে আমি নিজেই কখন ঢুকে পড়েছি বুঝতে পারি নি। যখন টের পেলাম, দেখি চোখের সামনে মাঝ-আকাশে ফুটে উঠেছে একটা একক শব্দ। শব্দটার নামদাবী এই একটা শব্দের মধ্যে আমি দেখতে পাই হাজার পায়ের মিছিল শুনতে পাই স্লোগান শুনতে পাই পুলিশের গুলি দেখতে পাই রক্ত শুনতে পাই আর্তনাদ দেখতে পাই ভয়ার্ত মুখ দেখতে পাই শুনতে পাই দেখতে পাই শুনতে পাই আর আড়ষ্ট হয়ে যাই।

একটু বিশ্রাম নিয়ে পরের শব্দগুলো পড়ছি। হেঁটে যাচ্ছি। শব্দ। পরের শব্দগুলো পড়ছি। আমি একাএকা হাঁটছি। মনে হচ্ছে পথে হাঁটা নিরাপদ নয়। দুপাশের দোকান বাড়িঘরগুলোতে লাঠি আর আগুনের ঝড় বয়ে গেছে কিছু আগে। একটা ভাঙা পাচিলে বসে আছি। মায়ের গন্ধ পাচ্ছি। মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আবার চমকে উঠলাম। আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে অন্তত দেড় দশক আগে। তাহলে? পড়ে ফেলা শব্দগুলো আবার পড়লাম। না ! আমার মায়ের কথা তো এখানে লেখা নেই ! তাহলে? আবার পড়লাম। হ্যাঁ ! আমার মায়ের গন্ধ রয়েছে শব্দের বন্ধনে বন্ধনে ! লেখকের শব্দ আর পাঠকের স্মৃতি গড়ে তুলেছে এক বয়ে যাওয়া বর্তমান। আশ্চর্য বাস্তবতা!