আশ্চর্য বাস্তবতা
শব্দগুলো পড়ছি
পরপর। প্রতিক্রিয়ায় দৃশ্য
গড়ে উঠছে মগজের
মহাজগতে,
দৃশ্য থেকে উঠে
আসছে সঙ্গীত, দেখা যাচ্ছে
না,
শোনা যাচ্ছে। দৃশ্য
আর সঙ্গীত মিলে
গড়ে উঠেছে সামগ্রিক
আবহ। পরের শব্দগুলো
পড়ছি। দৃশ্য একই
থাকছে,
আরো কিছু সংযুক্ত
হচ্ছে,
আরো ভরাট হচ্ছে
আবহ। পরের শব্দগুলো।
আরো ভারী হচ্ছে
আবহ,
সঙ্গীতের আনুষঙ্গিকতা বেড়ে
গেছে। পরের শব্দ।
দাড়ি কমা জিজ্ঞাসা
বিস্ময় আর শব্দের
পর শব্দগুলো পড়ে
যাচ্ছি। কিছু ঘুর্ণিচক্রের
অনুভব হচ্ছে। আর
কিছু সরল ঋজু
উল্লম্ব গতিশীলতা। সব
গতি সব অভিমুখ
ভিন্ন ভিন্ন বার্তা
নিয়ে। পরের শব্দগুচ্ছ
একসাথে পড়ে ফেললাম।
ঈশান কোন থেকে
একটা সংবেদ এসে
চিৎকার করে ফেটে
গেল। উল্লম্ব অভিমুখে
জ্বলে উঠল সংবাদ।
কিসের সংবাদ? দেখা যাক
পরের শব্দগুলো পড়ে
দেখি। শব্দ। শব্দ।
শব্দ। শব্দের গুচ্ছে
গড়ে ওঠা বাক্য।
শব্দের সংহতি গড়ে
তোলে যে বাক্য।
এবং বাক্য এবং
বাক্য। এতক্ষণ গড়ে
ওঠা আবহের মধ্যে
আমি নিজেই কখন
ঢুকে পড়েছি বুঝতে
পারি নি। যখন
টের পেলাম, দেখি চোখের
সামনে মাঝ-আকাশে ফুটে
উঠেছে একটা একক
শব্দ। শব্দটার নাম ‘দাবী’।
এই একটা শব্দের
মধ্যে আমি দেখতে
পাই হাজার পায়ের
মিছিল শুনতে পাই
স্লোগান শুনতে পাই
পুলিশের গুলি দেখতে
পাই রক্ত শুনতে
পাই আর্তনাদ দেখতে
পাই ভয়ার্ত মুখ
দেখতে পাই শুনতে
পাই দেখতে পাই
শুনতে পাই আর
আড়ষ্ট হয়ে যাই।
একটু বিশ্রাম
নিয়ে পরের শব্দগুলো
পড়ছি। হেঁটে যাচ্ছি।
শব্দ। পরের শব্দগুলো
পড়ছি। আমি একাএকা
হাঁটছি। মনে হচ্ছে
এ
পথে হাঁটা নিরাপদ
নয়। দু’পাশের দোকান
বাড়িঘরগুলোতে লাঠি আর
আগুনের ঝড় বয়ে
গেছে কিছু আগে।
একটা ভাঙা পাচিলে
বসে আছি। মায়ের
গন্ধ পাচ্ছি। মা
আমার মাথায় হাত
বুলিয়ে দিচ্ছে। আবার
চমকে উঠলাম। আমার
মায়ের মৃত্যু হয়েছে
অন্তত দেড় দশক
আগে। তাহলে? পড়ে ফেলা
শব্দগুলো আবার পড়লাম।
না
! আমার মায়ের কথা
তো এখানে লেখা
নেই
! তাহলে?
আবার পড়লাম। হ্যাঁ ! আমার মায়ের গন্ধ
রয়েছে শব্দের বন্ধনে
বন্ধনে
! লেখকের শব্দ আর
পাঠকের স্মৃতি গড়ে
তুলেছে এক বয়ে
যাওয়া বর্তমান। আশ্চর্য
বাস্তবতা!
No comments:
Post a Comment