Friday, 1 July 2022

মোনোলগ

.

ছন্দ ছাড়া কবিতা লেখার চেষ্টা হল শুকনো নদীতে নৌকো চালানোর চেষ্টা একথা বলেছেন এক কবি সে তিনি যা বলেছেন বলতেই পারেন অথচ দেখো সময়টা যখন লকডাউন স্নায়ুস্পন্দন কিন্তু চালু আছে হৃদযন্ত্রে ধুকুরপুকুর চলছে খিদেতে মুচড়ে উঠছে পেট বলো কবি হ্যাঁ কবি বলছি যদিও জানি তুমি কবিতা লেখো না লেখার কথা ভাবোও না অথচ স্পন্দন আছে ধুকপুক আছে আর পেটে আগুন জ্বলছে তখন বল তো কবি তুমি যখন তোমার উপার্জন বন্ধ আর বন্ধুস্বজন উধাও হয়েছে লকডাউনে তবু কি তুমি চুপ থাকতে পারছো বলো তো ভাবনা কি থেমে থাকছে বলো একা একা যখন মঞ্চে তুমি সংলাপ আর আলোকধ্বনীতে মাতিয়ে তুলতে প্রেক্ষাগৃহ যার বিনিময়ে তোমার পেটের জ্বালা জুড়তো একদা অথচ এখন লকডাউন তুমি জানো বাইরে বেরুনো বারণ সে তুমি জানো এমন কি আত্মহত্যাও বারণ সেটাও তুমি জানো অথচ তুমি অথচ দেখো সেই তুমিই কিনা অথবা সেই তোমার শরীর তোমার কথা শুনলো না সরকারী নির্দেশে লকডাউনও মানলো না সে বেরিয়ে পড়লো বলো কে সে বল তো কে তোমাকে নিয়ে চললো অথবা তুমি কি কাউকে নিয়ে গিয়েছিলে নাকি তোমার শরীর তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চেয়েছিল বলে নিজের শরীরের ধড় আর মুন্ড আলাদা করতে চেয়েছিল বলো কী সেই শক্তি যা নিষেধ মানে না প্রতিবাদ করে সত্তার বিরুদ্ধে আত্মার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলো শ্রমিক বলো তো কবি এই নিষেধের বিরুদ্ধে এই পথচলা এই সঙ্ঘবদ্ধ ছন্দতালের মাদকতা কিসের টানে কিসের ঠেলায় কিসের যন্ত্রণায় বলো প্রবাসী মজুর পরিবার আর প্রতিবেশী নিয়ে অসীমের দিকে এই যে তোমার হেঁটে চলা বলো তো যখন সূর্যটা মাথায় পুড়ছে পায়ের নিচে পিচ গলছে আর পুলিশের লাঠি এলোপাথাড়ি তার মধ্যেও কিসের জোরে বলো কিসের জোরে কেননা জানি যে খাবার না পেলে শরীর চলে না সেই নিয়মকে অস্বীকার করেও ঘরে ফেরার জেহাদ কারো দরজা ভাঙার জেহাদ কিসের জোরে বলো কবি হ্যাঁ কবি বলছি যেহেতু স্নায়ুস্পন্দন চালু আছে হৃদযন্ত্রে ধুকুরপুকুর চলছে খিদেতে মুচড়ে উঠছে পেট তাই কবি বলছি যার সত্তা ঘুমিয়ে পড়ে নি যার আত্মা এখনো জ্বলছে তাকে কি আর বলি কী নামে ডাকি হে মানুষ বলো এই যে জেহাদ এই যে প্রতিবাদ কালের বিরুদ্ধে নিয়মের বিরুদ্ধে যদি এই চলা কবিতা না হয় তবে জীবন কি শেষ হয়ে গেছে বলো ইতিহাসের কাছে জবাব কী দেবো বলো তো সত্তা বলো আত্মা বলো বলো...

 

No comments:

Post a Comment