মধ্যরাতে স্বাধীনতার পটকাবাজি।
সকাল সকাল পাড়ায় পাড়ায় বন্দেমাতরম উচ্চারণে দেশপ্রেমের গাঁড়পেঁয়াজি।
দিনেদুপুরে ফুটপাতের লাওয়ারিশ হকার আর হল্লাগাড়ির তোলাবাজি। এইসব নিয়ে...
যাক গে, একটা বিড়ি ধরানো যাক ! চা খাবেন? আমার আবার একটু খিদে-খিদে
পাচ্ছে, চাট-সামোসা খাওয়া যাক। অবশ্য তন্দুরি রুটি আর তড়কা খেলে বেশ অনেকটা সময়ের
ফুয়েল পাওয়া যাবে। এই ডালহৌসি পাড়ায় খাবার নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। যা খেতে চান তাই
পাবেন। দারুন সস্তায়। অবশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে হবে। তবে এই বেঞ্চটাতে আমরা
বসতেও পারি। এই বেঞ্চে বসে আমরা যা দেখব আর শুনব আর তা থেকে যা জানব তা নিয়ে, হ্যাঁ,
পার্টনার, আমাদের দু’জনকে দুটো করে তন্দুরি রুটি আর হাফ তড়কা। আর আঁচার থাকলে একটু
দেবেন, আচ্ছা, ঠিক আছে। ও হ্যাঁ, গতকাল অবশ্য এদের কাউকেই পাওয়া যায় নি।
হল্লাগাড়ি।
না, কি বলছিলেন, এখানে বসে যা দেখব শুনব তা নিয়ে কি যেন?
আরে বলছি তো কয়েক পাতা কবিতা এমন কি কয়েকটা উপন্যাস লিখে ফেলা কোন ব্যাপারই না।
আচ্ছা পার্টনার, কালকে তোমাকে ধরে নি? উনুন-টুনুন সবই তো ঠিক আছে দেখছি ! কালকে?
হাসতে হাসতে বলল, আমি তো জ্বলন্ত উনুন মাথায় নিয়ে দৌড় দিয়েছি, কি আর করবে, বড়জোর
গুলি করবে, আর কি করতে পারে?
হঠাৎ আমার সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে ওর মনের অবস্থা ধরে ফেলল। হাসতে
হাসতে একজনকে এইসব কথা বলতে দেখে বেশ ঘাবড়ে গেছে। এবার ওকে সুস্থ করতে আরেকটু হেসে
যা বলল তাতে আমার কবিতার সিল মেরে গেল।
-
পেটের জ্বালা বড় জ্বালা, বুঝলেন তো !
লিখতে পারি অনেক কিছুই। অনেক কথা অনেক ভাবনা মাথার মধ্যে
ভিড় করে আসে। তারপর জড়িয়ে যেতে থাকে। স্নায়ুকোষের উপর চাপ সৃষ্টি করে। স্নায়ুকোষ
অত চাপ সহ্য করতে পারে না। কিছু মরে যায়, কিছু পালাতে চেষ্টা করে, কিছু লাফাতে
থাকে। মগজে কারফিউ। বিকার। চিৎকার করতে গিয়ে একটা গ্যাজলা ওঠা শব্দ বারবার বেরিয়ে
আসতে থাকে, স্বাধীনতা !
No comments:
Post a Comment