১
পূজো আসছে। মা আসছেন। বাংলার মানুষ দিন গুনছেন। ঢাকে প্রথম কাঠি পড়বে বিশ্বকর্মা পূজায় -
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং
ড্যাং
তারপরেই শুরু হবে পূজোর আয়োজন –
ঢাকের তালে
কোমর দোলে
প্যান্ডেলে খ্যামটা নাচ।
অথচ আমি পূজায় আনন্দ-ফূর্তি করি না শুনে আমাদের রাজমিস্ত্রি সুকুর আলি তো মহা চিন্তায় পড়ে গেল। কি করে হয়? বাঙ্গালির এত বড় উৎসব অথচ আমার মত শিক্ষিত (!) একজন কি করে ফুর্তি না ক’রে থাকতে পারে !
অনেকক্ষণ চিন্তা ক’রে হঠাৎ সুকুর আলি বলে উঠল – ওওওও, আপনি তো মদ গাজা কিছুই খান না, এইবারে বুঝলাম।
সুকুর আলি'র কথা শুনে আমার এতদিনের শিক্ষা সব গুলিয়ে গেল।
মনে হ'ল এতদিন যা শিখেছি, সব ভুল।
এবার নতুন ক'রে শিক্ষা শুরু করতে হবে। জয় মা দুর্গা !!
২
এবার পূজায় মেয়েরা যেন পোষাকের ভব্যতা বজায় রাখে – পুলিশ-কর্তার নির্দেশ। এমনিতেই যেভাবে ধর্ষণ ইত্যাদি বেড়ে চলেছে তাতে সরকার খুবই চিন্তিত, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। জয় মা দুর্গা !!
পূজো বাঙ্গালির সেরা উৎসব। সারা পৃথিবী তাকিয়ে দেখে আমাদের এই সেরা উৎসব। বাঙ্গালিরা যদিও ‘দুর্গাপূজা’ বলে থাকি, ফরাসিতে বলা হয় Le Puja অর্থাৎ The Puja। ‘দুর্গা’ শব্দের ব্যবহার বাহুল্য হিসেবে অনুক্ত রাখা হয়েছে। মানে, বোঝাই যাচ্ছে আমাদের এই উৎসবের ঐতিহ্য ও খ্যাতি এমনকি ফরাসি ব্যকরণকেও প্রভাবিত করেছে। জয় মা দুর্গা !!
সুতরাং বাঙ্গালির এই সেরা উৎসব যাতে বাঙ্গালির মত ক’রেই পালন করা হয় সেদিকে আমাদের সজাগ হতে হবে। জয় মা দুর্গা !!
আরে তাই তো করছি। করছি না কে বলল?
গত বছরে একটা গ্রামের পূজোর বাজেট শুনেছিলাম এরকম –
প্যান্ডেল + প্রতিমা + ইত্যাদি = ০.৫ লাখ টাকা
ক্লাবের সদস্যদের মদ্যপান = ১ লাখ টাকা
ফাংশান = ৪ লাখ টাকা।
আমাদের শহরের পূজো এত কম টাকায় হয় না।
৩
আমাদের সময়ের পূজোর হালচাল ছিল অন্যরকম। পূজোপ্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায়ই শোনা যেত মেয়েদের উদ্দেশ্যে তখনকার জনপ্রিয় গানের এরকম দুয়েক কলি –
“আ হা !
কী দারুণ দেখতে !
চোখদু’টো টানা-টানা
যেন শুধু বলে কাছে আসতে।” (Tease 1)
এসব টিজিং ৭০/৮০-র দশকে চলত। তার বদলে প্যান্ডেলের আশেপাশে এখন শোনা যায় –
“ওরেত্তারা, মালটা দেখেছিস? চটকে মজা আছে কিন্তু।” (Tease 2)
আচ্ছা,
Tease 2-এর কারণ কি অবজেক্ট-এর হট পোষাক? “দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার প্রিয় শহর এবং শহরতলির এখনো এতটা অগ্রগতি ঘটেনি যে, রাস্তাঘাটে হামেশাই হট পান্টস-ট্যাঙ্ক টপ পরিহিত মেয়েদের দেখা যায়। বা, জনসমক্ষে বিকিনি।” (স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী) http://www.ebela.in/details/21969-151930546.html
তবু ধর্ষন কেন হয়?
পোষাক যতই ভব্য/ডিসেন্ট হোক, তার একটা স্কেচ/আউটলাইন পাওয়া যায়। আর নারীর নারীত্ব থাকে পুরুষের মনে। বুঝিয়ে বলছি -
অবজেক্ট-এর স্কেচ/আউটলাইন-এর সাথে সাবজেক্ট-এর রেডি ডাটাবেস মিলে একটা টোটাল ইমেজ তৈরি হয়। এবং সাবজেক্ট-এর তৈরি অবজেক্ট-এর এই ইমেজ-এর রেডিয়েশনের ফলে কখনও বা অবজেক্ট নিজেই সে সাবজেক্ট হয়ে গিয়ে প্রাইমারি সাবজেক্টকে অবজেক্ট করে ফেলে এবং তাকে প্রভাবিত ক’রে উত্তপ্ত ক’রে গতিশীল ক’রে তোলে। গতিশীল হয়ে প্রাইমারি সাবজেক্ট প্রাইমারি অবজেক্ট-কে আক্রমণ করতে পারে, যার নিট রেজাল্ট – “ধর্ষণ”। জয় মা দুর্গা !!
কিন্তু এই ‘রেডি ডাটাবেস’ জিনিসটা আসে কোত্থেকে? আসছি সেকথায় পরের কিস্তিতে।
এখন, কথাটা হ’ল, ধর্ষনের সাবজেক্ট-কে গ্রেপ্তারের সাবজেক্ট হিসেবে দেখলে যেখানে শাসকদলের সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ধর্ষনের অবজেক্ট-কেই নানাভাবে দোষারোপ ক’রে অপরাধীর কাঠগড়ায় তোলা ধর্ষক-সরকারের ডাইরেক্টিভ প্রিন্সিপ্ল্ হ’য়ে ওঠে। সুতরাং ডেপুটি কমিশনারের এই মহান নির্দেশ – “ড্রেস ডিসেন্টলি”। জয় মা দুর্গা !!
বাস্তবে যারা ভিকটিম (মেডিয়ায় যা পাওয়া যাচ্ছে), কিছু যথেষ্ট ভদ্র, আর কিছু দারিদ্রক্লিস্ট নিচুতলার মেয়েরা। পোষাক তাদের কারোরই ইন-ডিসেন্ট দেখা যায় নি।
তবু ধর্ষন চলছে। জয় মা দুর্গা !!
এবং চলবে। জয় মা দুর্গা !!
অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলবে। জয় মা দুর্গা !!
প্রতিবাদীদের নাম যাবে বরুণ বিশ্বাসের খাতায়। জয় মা দুর্গা !!
৪
All knowledge that the world has ever received comes from the mind; the infinite library of the universe is in your own mind. The external world is simply the suggestion, the occasion, which sets you to study your own mind, but the object of your study is always your own mind.
[Swami Vivekananda: Karma-Jog]
When the subject has lust in mind, object of crime has no way to escape.
- আরে, পুজো আসছে, তো পূজোর কথা হোক। এর মধ্যে ধর্ষনের কথা আসছে কেন, আর রাজনীতির কথাই বা আসছে কেন?- আর মদগাজা? প্রথম কিস্তিতে যেটা বলছিলাম?
- হ্যাঁ, গাঁজা-মদ চলতে পারে। ওসব ছাড়া কি আর উৎসব সম্পূর্ণ হয়? কেন, বিজ্ঞাপন দেখেন নি? হোর্ডিং-এ? খবরের কাগজের প্রথম পাতায় হুইস্কির বিজ্ঞাপন? ঢাক-বাজানোর সাথে হুইস্কির বোতলের ছবি?
জয় মা দুর্গা !! মা আসছেন বছরে একবার, চারদিন থাকবেন, প্রয়োজনে ভিসা এক্সটেনশন করিয়ে আরো দুয়েক দিন বাড়িয়ে নেওয়া যেতেই পারে। কয়েকদিন খাওয়া-দাওয়া নাচগান হবে। ফাংশান হবে। ভাল ভাল বড় বড় শিল্পীদের আনা হবে।
- আর ওই মেয়েটা?
- ইস্, এই সব অশ্লীল পোষাকের জন্যেই তো ধর্ষন-টর্ষন এত বেড়ে যাচ্ছে।
- কেন, আপনার ইচ্ছে করছে? ধর্ষন করতে?
- ...
- আরে, লজ্জা পাচ্ছেন কেন? আমারও তো ...
- আপনারও... ?
- হোয়াই নট? তবে ...
তবে এই মেয়েটা কিন্তু রেপ্ড হবে না। হবে আপনার বাড়ির ডিসেন্ট ড্রেস-পরা লক্ষ্মী-মেয়েটি, যদিও তার পরনে জিন্স-শার্ট বা চুরিদার, কিন্তু ডিসেন্ট। কারণ বাজারে যত রেপিস্ট আছে তত রেন্ডি নেই।
হ্যাঁ, যা বলছিলাম এর আগের কিস্তিতে, রেডি ডাটাবেস।
এই যে একটা মেয়েকে অশ্লীল পোষাকে এক ভদ্রলোক দেখলেন, রেপ করার ইচ্ছে হ’ল, কিন্তু সাহসের অভাবে পারলেন না, কিন্তু এর মধ্যে কিছুটা ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেল যা পরে ভদ্রলোককে কামত্তেজিত হতে সাহায্য করবে।
আর তা’ছাড়া যেহেতু এরকম ড্রেস-এ মেয়েদের সচরাচর আমাদের রাস্তাঘাটে দেখা যায় না অথচ ভদ্রলোক এসব দেখতে খুবই পছন্দ করেন, তাই বাড়ি গিয়ে টিভি খোলেন। টিভি-তে এসব অনেক কিছু সাধারন চ্যানেলেই প্রচুর দেখা যায়। (এডাল্ট চ্যানেলের কথা ছেড়েই দিলাম) এতে নিয়মিত কিছু ডাটা ক্রমাগত এন্ট্রি হতে থাকে। এর প্রভাবে ভদ্রলোকের কামেচ্ছা বাড়তে থাকে, কিন্তু কেচ্ছার ভয়ে চুপ থাকেন। অথবা চুপিচুপি আশেপাশের মেয়ে-মহিলাদের লোভ দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি ক’রে ব্যবহার করে থাকেন। এগুলোকে ধর্ষন বলা হয় না কারণ এতে কমবেশী দু’পক্ষের সম্মতি থাকে অথবা সম্মতি না থাকলেও চাপের কারণে প্রতিবাদ হয় না।
বাড়ির পুরুষ-মহিলা সকলেই সিরিয়ালের পাশাপাশি এই ধরনের অনুষ্ঠানই বেশী করে দেখেন। তা’হলে এর যা প্রভাব পুরুষের বেলায় হয়, মহিলাদের কী তা হয় না? অবশ্যই হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান না দেখলেও স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা তো হয়। মেডিয়ার জাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে তা কিছুটা তোল্লা পায়। তবে মহিলাদের বেলায় তার প্রকাশ অন্যরকম, খুব গোপন। মোটামুটি পরিবার-প্রতিবেশ-গন্ডির মধ্যেই এর সুযোগ তারা তৈরি করে নিতে পারে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো এই সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষতঃ আমাদের দোল-উৎসব এই সুযোগ এনে দেয় ধর্মীয় সংস্কৃতির নামে।
ইচ্ছুক পুরুষদের সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু এমনকি কিশোর-বালকদের সুকৌশলে ব্যবহার করাও হয়ে থাকে। এভাবে নাবালকদের কম বয়সে প্রাপ্তবয়স্কের কাজ করানোর ফলে তার কিছু মানসিক বিকৃতি ঘটে। পরবর্তীকালে তার আচরণে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তাতেও সমাজে ধর্ষকের সংখ্যা বাড়ে।
একইভাবে নাবালিকাদেরও বয়স্ক পুরুষদের হাতে এভাবে ব্যবহারের ফলে তাদেরও ওই একই মানসিক বিকৃতি ঘটে। পরে তারা নিজে থেকেই বয়স্ক পুরুষকে প্ররোচিত করে। জানাজানি হলে সেই পুরুষকেই সংবিধানের বিচারে শাস্তি পেতে হয়। ভ্লাদিমির নভকভের ‘লোলিতা’ উপন্যাসের কথা অনেকেরই জানা আছে। আমাদের সমাজেও এরকম ঘটনা অসংখ্য। যারা নিম্ফোম্যানিয়াক বাই নেচার তাদের নিয়ে আমার কিছু বলার নেই, ওটা অভিজ্ঞ মনস্তাত্বিকদের বিষয়। যারা তা নয় তাদের নিয়েই আমার এই প্রতিবেদন।
তবে শুধু টিভি বা বলিউড-টলিউডকে দোষারোপ করলেই তো হবে না, যারা আর্টফিল্ম দেখতে গিয়ে অপারেটরের কাছে খবর নেয়, এই ফিল্মটাতে “কিছু” আছে কিনা, মানে, যারা ফেলিনি’র ছবি দেখে বাথরুম থেকে ঘুরে এসে বলে ‘আমি ফেলিনি’ তাদের কথাই বা বাদ যায় কেন? ফিল্ম ফেস্টিভালের কথায় কথায় এক ভদ্রলোক বেশ বলেছিলেন, যাদের বাড়িতে কেবল-লাইন নেই তারাই আর্টফিল্ম দেখতে যায়।
তা’ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক বা শিল্পী একজন উঠতি-কে সুযোগ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাকে যে সেক্সুয়ালি এক্সপ্লয়েট করে থাকে সেটাই বা বাদ যায় কেন? এ ধরনের এক্সপ্লয়টেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হ’লে যে বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায় ধর্ষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তাদের দেখা গেছে এসব ক্ষেত্রে ওটাকে শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয় ব’লে লঘু করে দেখছেন।
অর্থাৎ, দোষ ঢুকে আছে সমাজের হাড়ে-মজ্জায় প্রতিটি রক্তকোষে। গোটা সমস্যাটা একটা সামাজিক তথা জাতীয় সংস্কৃতির রূপ নিয়েছে, কোথাও প্রকাশ্যে, কোথাও গোপনে। অপরাধীর কোনো জেন্ডার নেই, রেলিজিয়ন নেই, কাস্ট নেই, ক্রিড নেই। তার আছে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া শক্তিশালী ডাটাবেস আর এক অপরাধ-ওরিয়েন্টেড প্রোসেসর যা সেই রেপিস্টকে অবজেক্ট-এর স্কেচ/আউটলাইন থেকে টোটাল ইমেজ তৈরি করতে সাহায্য করে। "the infinite library of the universe is in your own mind. The external world is simply the suggestion." পুলিশ ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশিত ‘ড্রেস কোড’ যে আদৌ কোন কাজে লাগবে না তা তিনি ভাল করেই জানেন।
সুতরাং, যেমন চলছে তেমন চলবে। জয় মা দুর্গা ! বছর বছর পূজো হবে। প্যান্ডেল হবে। সকালে মেয়েরা লালপাড় শাড়ি পরে ডালি সাজিয়ে অঞ্জলী দিতে আসবে। বিকেলে ফাংশান হবে। একদিন কবিতা আবৃতি, রবীন্দ্র-নজরুলসংগীত ও সফল ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মান জানানো। আরেক দিন বাংলা ব্যান্ড ও জনপ্রিয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান। আরেকদিন হট। রিয়ালিটি শো। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশী ভিড় হবে যেদিন শিশু-শিল্পীদের ডান্স-ডান্স। বাচ্চামেয়েটি বলিউডের হট-নায়িকার স্টাইলে সেক্সি-ডান্স করবে। দারুন উত্তেজক এই ডান্স দেখতে পাড়ার সব মহিলা-পুরুষ ছুটবে। সেটাই সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সর্বজনগ্রাহ্য সেরা অনুষ্ঠান। জয় মা দুর্গা !
৫
প্রফেসর - এবার পূজোয় কি করবি?
নেতা – কেন? যা করছি তাই করব। মদ খাবো।
প্রফেসর – ব্যস? শুধু মদ খাবি? বেরোবি না?
নেতা – বেরোব আর কোথায়? হ্যাঁ, একদিন তারাপীঠ যাব। একদিন সোনাগাছি যাব। আরেকদিন প্যান্ডেলে।
প্রফেসর – প্যান্ডেলে? তুই একজন জননেতা, প্যান্ডেলে বসে কি করবি?
নেতা – তুই বাড়া প্রফেসর হয়েছিস, তোর মাথায় কিন্তু কোন বুদ্ধি নেই। আরে বাড়া, প্যান্ডেলে বসে মাগি দেখব। তার মধ্যে ভাল মাল পেলে রেপ করে দেব।
প্রফেসর – প্যান্ডেলে রেপ করবি? অত লোকের মধ্যে? লোকে তোকে এমনি ছেড়ে দেবে?
নেতা – আরে প্রফেসর, তোমার ইউনিভার্সিটিতে যা খেল দেখিয়েছ, আমি তো ভুলতেই পারছি না। আরে বাড়া, প্যান্ডেলের লাইট নিভিয়ে দিয়ে দল বেঁধে রেপ করব। সঙ্গে পুলিশ থাকবে, আটকাবে কোন শালা। যে বাধা দেবে তাকেই রেপ-কেসে ফাঁসাব।
প্রফেসর – কিন্তু লাইট নিভিয়ে দিলে অন্ধকারে দেখবি কি করে?
নেতা - অন্ধকারে কি করে দেখব? দেখবি কি করে দেখব? তুই এক কাজ কর, উঠে গিয়ে লাইটের সুইচটা অফ্ করে দে। হ্যাঁ, এবার আমার চোখের দিকে তাকা। দেখছিস?
প্রফেসর – আরে ! অন্ধকারে তোর চোখদুটো যে বুনো-কুকুরের চোখের মত জ্বলজ্বল করছে ! তুই মানুষ না কুকুর?
নেতা – আরে প্রফেসর, তোমার চোখদুটোও দেখছি বুনো-শেয়ালের চোখের মত জ্বলছে।
প্রফেসর – ইয়েস, রাইট ইউ আর, লিডার !
ইন ডে-লাইট উই আর প্রফেসরস্, লিডারস্।
ইন ডার্কনেস্ উই শো আওয়ারসেল্ভ্স্।
কিছুক্ষণ অন্ধকারেই ওরা চুপ করে বসে থাকে। হঠাৎ প্রফেসর শেয়ালের হাঁক দিতে শুরু করে। নেতা কুকুরের ডাক দিতে শুরু করে। ততক্ষণে মহালয়ার আগমনী গান শুরু হয়ে গেছে। দূরে ঢাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে –
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং-ড্যাড্যাং-ড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং-ড্যাড্যাং-ড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং-ড্যাড্যাং-ড্যাং
ড্যাড্যাং ড্যাড্যাং ড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং-ড্যাড্যাং-ড্যাং
ড্যাং-ড্যা-ড্যাড্যাং-ড্যাড্যাং-ড্যাং
ড্যাড্যাং ড্যাড্যাং ড্যাং
[সমাপ্ত]
No comments:
Post a Comment