Monday, 19 October 2015

একটি প্রেমের গল্প



একটি প্রেমের গল্প


শরতের টুকরো মেঘগুলোকে উপেক্ষা করে আকাশটা সরে সরে যাচ্ছে।
বটের ছাতাটা নড়েচড়ে জায়গা করে নিচ্ছে।
প্রাগৈতিহসিক জামগাছটা এদিকে তার মাটির দিকেই নজর রেখে
আকাশের সরে যাওয়াকে উপেক্ষা করে চলেছে।
নানারকম পাখির ডাক
শোনা যাচ্ছে কিন্তু পাখিদের দেখা যাচ্ছে না।
তার সাথে নারীকন্ঠের খিল্লতা। পুরুষের হাসাহাসি।
সবটাই শ্রবণপ্রান্তরের।
সবটাই তেপান্তরের অন্তরের কথা।
দেখা যায় না। 
কিছু কিছু শোনা যায় খবরের কাগজ থেকে।
বটের গোড়ায় বসে জয়েন্টে টান দিলাম। অনেকটা ধোঁয়াকে একসাথে
বন্ধমুখের ভিতরে। প্রতিক্রিয়া টের পাচ্ছি মগজের স্নায়ুতে।
কিছু একটা ঘটছে।
কিছু একটা ঘটছে আমার মগজের স্নায়ুতে।
কিছু একটা ঘটছে এই জনহীন প্রান্তরে।
নারীকন্ঠ। আর্তনাদ। মনে হল কে যেন দৌড়চ্ছে। উঠে দাঁড়ালাম।
মেয়েটা পালাতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে –
পাঁচটা ছেলের হাতে পাঁচটা ধারাল অস্ত্র – কোনোটা স্ক্যালপেল, কোনোটা কানপুরী, কোনোটা অথবা ওরকম কিছু।
বুঝলাম ব্যবচ্ছেদ শুরু হতে চলেছে।
আমার অস্ত্র বলতে বুকপকেটের বলপেন কবিতা লেখার জন্যে।
ওটা পকেটেই থাক। জয়েন্টে টান দিলাম। 
বিবেক জাগছে। মাথায় তাজ্ঝিম নাচছে।
এগোতে গিয়ে একটা পা তুলতেই পৃথিবীটা অন্যদিকে ঘুরে গেল।

তারপরে আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল, দেখলাম বৃটিশ আমলের একটা পুরনো বাড়িতে আসবাবহীন একটা ফাঁকা ঘরের মেঝেতে
ওদিকে মেয়েটার লাশ,
এদিকে আমি। 


No comments:

Post a Comment