ভালো বাসা
আশা ছিল, ভালবাসা ছিল। আজ আশা নেই, ভালবাসাও নেই।
আশা মানে অনেক কিছু হতে পারে – আশা পারেখ, আশা ভোঁসলে, ইত্যাদি সেলিব্রিটি, অথবা যে কোন একটি মেয়ে যার নাম ‘আশা’।
ভালবাসা। একটা বাড়ির নাম। দক্ষিন কোলকাতায় একটা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল একটা বাড়ির গায়ে লেখা আছে “ভালবাসা”। মনে পড়ে গেল, আচ্ছা, এই তাহলে সেই বিখ্যাত বাড়ি যার নাম শুনেছিলাম “ভালবাসা”। কিন্তু আমাদের তো থামলে চলবে না। চলো আরেকটু এগিয়ে যাই।
চলতে চলতে চোখে পড়বেই তাছাড়া যেহেতু শহরের ফুটপাথ ধরে চলছি, ফুতপাথবাসীদের ঘরবাড়ি, আদৌ যদি ঘরবাড়ি বলা যায় তাকে। ঘরের দেয়াল থাকে, চাল থাকে, এখানে সেসব নেই, বড়জোর বৃষ্টির সময় মাথার উপর একটা প্লাস্টিক টানানো হয়, তবে অবশ্যই থাকে অস্থায়ী বিছানা। অস্থায়ী। কারন শোয়ার সময়েই শুধু, অন্য সময়ে গুটিয়ে রাখা হয়।
চোখে পড়ল একটা থার্মোকলের বাক্স পেটাচ্ছে দুটো কাঠি দিয়ে এক
ফুটপাথের শিশু। আরেকজন একটা হাড়ি বাজাচ্ছে। আর তালে-তালে নাচছে তিনটে শিশু।
এই শিশুরা, গড়িয়াহাট থেকে যাদবপুর অবধি আমি লক্ষ্য করেছি, ওপারবাংলার। ভাষায় ফরিদপুরি টান। এরা ভারতীয় নয়, রিফিউজি নয়, এরা অনুপ্রবেশকারী। এদের বাজনায় ছিল বাংলার ঢাকের সুর।
নাচের ছন্দে দুর্গাপুজোর গন্ধ। অর্থাৎ, সংস্কৃৃতি আছে, ঐতিহ্য আছে, কিন্তু নাগরিকতা নেই, বাসা নেই, ঘরবাড়ি নেই। তবু
যেহেতু সংস্কৃৃতি আছে, ঐতিহ্য আছে, সুতরাং আশা আছে, ভালবাসা আছে।
একটা কাকের বাসা দেখেছিলাম একটা ভাঙা ল্যাম্পশেডের মধ্যে। এটাও একটা বাসা। এটার নাম কি “ভালবাসা” দেওয়া যেতে পারে? অবশ্যই, না। বাসাটা দেখতে মোটেই ভাল না। কিন্তু দেখলাম বাসার মধ্যে কাকের বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে তাদের মা। দেখলাম ভালবাসা। আরেকদিন দেখেছিলাম শীতের দুপুরে ফুটপাথে শুয়ে এক ছয় বছরের শিশু তার ঘুমন্ত মায়ের কোলের ঘুমন্ত আট/নয় মাসের শিশুটির কপালে, চোখে, গালে, ক্রমাগত চুমু দিয়ে চলেছে। ভালবাসা। আছে। হতে পারে তাদের বাসাটা ভাল না, কিন্তু সেখানে ভালবাসা আছে। তাই, এখনো আশা আছে।
No comments:
Post a Comment